সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভুয়া পরীক্ষার্থী বা প্রক্সি প্রার্থী ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি অফিস স্মারক পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তাদের অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে এই নির্দেশনাগুলো দ্রুত কার্যকর করতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিম্ন গ্রেডের কয়েকটি পদের নিয়োগ পরীক্ষা, ভাইভা ও যোগদান প্রক্রিয়ায় অভিনব প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়ার পর এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে এক মাসের মধ্যে তোলা রঙিন ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক। লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের আবেদনপত্র সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করতে হবে। পরীক্ষার কেন্দ্রে ব্যাগ, বই বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের পর কোনো প্রার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ রাখার পাশাপাশি প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে থাকা ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারার মিল যাচাই করতে হবে।
মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে উত্তরপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হাতের লেখার সাদৃশ্য যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে সেই ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীকে যোগদানের সময় আগে তুলে রাখা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই যোগদানপত্র গ্রহণ করতে হবে। নিয়োগ পরীক্ষার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, সামারি ট্রায়াল অথবা নিয়মিত মামলা দায়ের করতে হবে। জালিয়াতি প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে এই কঠোর নিয়মগুলো অনুসরণ করা হলে জালিয়াতির সুযোগ কমে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।