দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়াও সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেকেই এখনও নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও এর আশেপাশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে তীব্র ভূকম্পনের ফলে বহু ঘরবাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধসে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রস এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর যৌথ উদ্ধারকারী দলগুলোর পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। ধংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে হাতুড়ি, শাবল ও অত্যাধুনিক কংক্রিট কাটার নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা বেশ তীব্র ছিল এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূগর্ভের তুলনামূলক কম গভীরে, যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের পর দেশটির সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা ও ত্রাণ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আফটারশকের ভয়ে হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী তাঁবুতে রাত কাটাচ্ছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি নিজে তদারকি করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পুনর্বাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকটনিক প্লেটের সক্রিয়তার কারণে এই অঞ্চলে এই ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বরাবরই বেশি থাকে, যা ভবিষ্যতে অবকাঠামোগত সুরক্ষায় আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।