বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হয়েছে বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ‘চলচ্চিত্র উৎসব: একাল সেকাল’। ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ৯ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত এই উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের এই আয়োজনে পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রের এক মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে, যা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। উৎসবের সব প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, ফলে যে কেউ কোনো ফি ছাড়াই সিনেমা উপভোগ করতে পারছেন।

উৎসবে প্রদর্শিত সিনেমার তালিকায় রাখা হয়েছে কালজয়ী সব চলচ্চিত্র। এর মধ্যে রয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, জহির রায়হানের ঐতিহাসিক সৃষ্টি ‘জীবন থেকে নেয়া’, খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’, মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের ‘মাস্তুল’, আমজাদ হোসেনের ‘দুই পয়সার আলতা’ এবং আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। এই চলচ্চিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিবর্তন এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের এক চমৎকার প্রতিফলন তুলে ধরা হচ্ছে।

উৎসবের প্রাক্কালে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে ‘সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রের একাল সেকাল’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানসহ দেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিন হলের বিলুপ্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে বিকল্প সিনেমা হল হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। নির্মাতাদের দাবি, সারা বছর জেলাভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, কনটেন্ট ব্যাংক তৈরি এবং নাট্যদলের মতো চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরও হল ভাড়ায় রেয়াত প্রদান করা প্রয়োজন।

শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী জানান, নির্মাতাদের প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশের অডিটোরিয়াম ও মিলনায়তনগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়ন এবং পর্দার মান বৃদ্ধির কাজ দ্রুত শুরু হবে। এছাড়া স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উৎসাহ দিতে ভাড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের বিষয়টিও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংসদীয়ভাবে চলচ্চিত্র বিভাগ আলাদা করার প্রস্তাব পাস হওয়ায় এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক পর্যায়েও সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।