অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ শুরুর ঠিক প্রাক্কালে বড় ধরনের ধাক্কা খেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ডারউইনের মারারা ওভালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর দল মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জায় পড়েছে। এই ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরেছে ইনিংস ও ৩৮ রানের বিশাল ব্যবধানে। ২৩ বছর পর অজিদের মাটিতে টেস্ট খেলার অপেক্ষায় থাকা টাইগারদের জন্য এই পরাজয় কেবল একটি প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল নয়, বরং দলের মূল শক্তির জায়গা ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ম্যাচটিতে টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসটি দীর্ঘ সময় লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। যদিও প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের ১৪১ বলে ১০৯ রানের লড়াকু সেঞ্চুরি দলকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল এবং হাসান মাহমুদের ৪ উইকেট শিকার অজিদের চাপে ফেলেছিল, কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। তৃতীয় দিনে মাত্র ১৭ ওভার স্থায়ী হয়েছিল টাইগারদের দ্বিতীয় ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার তরুণ বাঁ-হাতি পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসনের তোপের মুখে মাত্র একজন ব্যাটার—তানজিদ হাসান তামিম—দুই অঙ্কের কোঠায় পৌঁছাতে পেরেছেন। ২২ রান করা তামিম ছাড়া বাকিরা আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিয়ে দলকে ৫৪ রানের করুণ স্কোরে থামিয়ে দেন।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় প্রধান কোচ ফিল সিমন্স দলের এই পারফরম্যান্সে তীব্র হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেভাবে ব্যাটাররা নিজেদের উইকেট বিলিয়ে এসেছেন তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। তবে অতীতে পড়ে না থেকে সামনে থাকা অল্প সময়ের মধ্যেই ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। সিমন্স বিশ্বাস করেন, মূল টেস্টের আগে হাতে থাকা তিন-চারটি অনুশীলন সেশন কাজে লাগিয়ে ছেলেরা মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

এদিকে, দলের নির্ভরযোগ্য স্পিনার তাইজুল ইসলামের চোট নিয়ে তৈরি হওয়া শঙ্কা কিছুটা কেটেছে। প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে চোট পাওয়ার পর তার আঙুলের ফোলা ও ব্যথা কমেছে বলে জানিয়েছেন দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান। প্রথম টেস্ট শুরুর আগে হাতে থাকা কয়েকদিনে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দলের টপ অর্ডারের এই ভঙ্গুর দশা এবং নতুন বলের বিপক্ষে অস্বস্তি অস্ট্রেলিয়ার মূল টেস্ট দলের শক্তিশালী পেস আক্রমণের সামনে টাইগারদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কোচ সিমন্সের পরামর্শে শান্তরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত হতে পারেন।