সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বাড়ির সামনের ডোবায় ডিঙি নৌকা চালাতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় বোনও পানিতে ঝাঁপ দেয় এবং সাঁতার না জানার কারণে উভয়েরই প্রাণহানি ঘটে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত শনিবার বিকেলে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের চকিয়াচাপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা হলো ওই গ্রামের স্থানীয় কৃষক মো. সারোয়ারের সন্তান রাবিয়া আক্তার (৯) এবং তার ছোট ভাই সাহাদ মিয়া (৫)। বড় বোন রাবিয়া চকিয়াচাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং ছোট ভাই সাহাদ একই বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল চারটার দিকে রাবিয়া ও সাহাদ তাদের বাড়ির সামনের একটি ডোবার ঘাটে বাঁধা ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে খেলা করছিল। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ছোট ভাই সাহাদ নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যায় এবং তলিয়ে যেতে শুরু করে। ভাইয়ের আকস্মিক এই বিপদে তাকে বাঁচাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বড় বোন রাবিয়াও পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ভাই-বোন কারোরই সাঁতার জানা ছিল না। ফলে গভীর পানিতে দুজনেই তলিয়ে যায়।

ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর বিকেল পাঁচটার দিকে স্থানীয় লোকজন ডোবার পানি থেকে অচেতন অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুদের চাচি আল্পনা আক্তার শোকে বিহ্বল হয়ে জানান, তাদের পরিবার এই আকস্মিক ও অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ধর্মপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দুই ভাই-বোনের এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ করা হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ জনপদে শিশুদের অসচেতনতা এবং জলাশয়ের আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব প্রায়ই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্ম দেয়। বর্ষা কিংবা সাধারণ সময়েও বাড়ির পাশের ডোবা বা পুকুরে শিশুদের খেলার সময় অভিভাবক মহলের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।