রাজধানীর মিরপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে এক বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় এক পথচারী প্রবীণ নারীও গুলিবিদ্ধ হন। শুক্রবার বিকেলে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি স্থানীয় অপরাধচক্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে ঘটেছে, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোর তদন্ত পরিচালনা করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বন্দুকধারীদের হামলায় আহত বিএনপি নেতার নাম আলমগীর হোসেন (৪৫)। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড (লালবাগ-নবাবগঞ্জ রোড) বিএনপির সক্রিয় সদস্য। পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাটে পারিবারিক মাছের আড়ত ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত আলমগীর তাঁর পরিবার নিয়ে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে বসবাস করে আসছিলেন। ঘটনার সময় তিনি স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে অন্যদের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন। আচমকা একটি প্রাইভেট কার সেখানে এসে থামে এবং চারজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গাড়ি থেকে নেমে আলমগীরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।
সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আলমগীরের মাথা ও পিঠে মোট তিনটি আঘাত লাগে। মারাত্মক রক্তক্ষরণ অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ফের প্রাইভেট কারে চড়ে চম্পট দেয়। এই আকস্মিক গোলাগুলির মধ্যে পড়ে আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। এ সময় জোসনা (৬৫) নামে স্থানীয় এক পথচারী নারীর পায়ে একটি গুলি লাগে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। আহত জোসনাকে মিরপুরের একটি স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলমগীরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর জানান, হামলাকারী চারজনের মধ্যে দুজনকে তিনি সুস্পষ্টভাবে চিনতে পেরেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা হলেন এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসী ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রুবেল ওরফে ‘ল্যাংড়া রুবেল’ এবং বাপ্পী। তবে কী উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলো, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ সংস্থার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ল্যাংড়া রুবেলের সঙ্গে আলমগীরের পুরনো কোনো বিরোধ থাকতে পারে এবং তারই জেরে এই হামলা সংগঠিত হয়েছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয় সন্ত্রাসী ল্যাংড়া রুবেল ও তার অনুসারীদের এই হামলার পেছনে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলায় ব্যবহৃত প্রাইভেট কারসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।