দেশের পোশাক ও নিটওয়্যার খাতের বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও জীবন বীমা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার একটি স্বনামধন্য হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিশেষ উদ্যোগের সুবাদে বিকেএমইএর আওতাধীন কারখানাগুলোতে কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তা মাত্র বার্ষিক ২৫০ টাকা প্রিমিয়াম পরিশোধের বিনিময়ে উন্নত স্বাস্থ্য এবং জীবন বীমার সুরক্ষা লাভ করবেন।
চুক্তি অনুযায়ী, অতি অল্প খরচে মিলবে সমন্বিত বীমা সুবিধা। এর মধ্যে থাকছে জীবন বিমার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা টেলিমেডিসিন সেবার সুযোগ এবং দেশের পাঁচ শতাধিক স্বনামধন্য হাসপাতালে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্টে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সুবিধা। শুধু কর্মীরাই নন, বরং তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যরাও এই স্বাস্থ্যসেবা ও সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। বর্তমানে বিকেএমইএর তালিকাভুক্ত আড়াই হাজারের বেশি নিটওয়্যার কারখানা রয়েছে। ফলে এই বৃহৎ কর্মীবাহিনীর কাছে আধুনিক বীমা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব। তারা জানান, বেসরকারি খাতের এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বক্তারা বলেন, দেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্প অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এই খাতের সাথে জড়িত শ্রমিকদের জীবনমান এবং স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল করপোরেট দায়িত্বই নয়, বরং এটি একটি টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গঠনের পূর্বশর্ত।
গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা জানান, নামমাত্র খরচে এই সেবা প্রদানের মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক ও পরিশ্রমী জনগোষ্ঠীর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে অনুষ্ঠানে বলা হয়, কারখানার অভ্যন্তরে ও বাইরে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে সার্বিক উৎপাদনশীলতা অন্তত দশ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। আর এই মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
বিকেএমইএর নেতৃত্ব আশা প্রকাশ করেন যে, এই অংশীদারত্ব কেবল শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে না, বরং সামগ্রিক শিল্পখাতে একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মডেলটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদেরও বীমা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা সহজ হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ সাধিত হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।