গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তথ্যচিত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসংগতি থেকে থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জানানো যেত, কিন্তু রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হট্টগোল সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেকোনো নাগরিক বা সংগঠনেরই কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করার কিংবা অভিযোগ জানানোর গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি, বিদেশি কূটনীতিক, বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো বিশেষ মহলের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বানচাল করার অপচেষ্টা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেছে মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাবলি উপস্থাপনায় ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তোলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে আমন্ত্রিত বিদেশি কূটনীতিকদেরও অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যেতে দেখা যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত হট্টগোলের কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শহীদ পরিবারগুলোর সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধারা গভীরভাবে মানসিকভাবে আঘাত পান, যা তাদের পরবর্তী বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের অপতথ্য ছড়ানো কেবল রাষ্ট্রের সম্মানহানির কারণই নয়, বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র। এ ধরনের হঠকারী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, মিথ্যা অপতথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অর্থ হলো রাষ্ট্রকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের কবলে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করা।

এদিকে সমালোচনার মুখে পড়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রদর্শিত তথ্যচিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলো বিশেষজ্ঞ প্যানেল দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তথ্যচিত্রটি পরিমার্জন করা হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাসকে নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং তথ্যভিত্তিক দলিল হিসেবে সংরক্ষণে বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতবদ্ধ রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।