আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল লটারির পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। তবে প্রথম শ্রেণি বাদে অন্যান্য ক্লাসে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত লটারি পদ্ধতি বাতিল করে প্রতিযোগিতামূলক লিখিত পরীক্ষার প্রবর্তন করা হচ্ছে। শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ভর্তি কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।

গত কয়েক বছর ধরে প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে মাধ্যমিকের বিভিন্ন স্তরে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়ম চালু ছিল। এতে অভিভাবক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে মেধার মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে একাংশ শিক্ষক ও অভিভাবক লটারি পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছিলেন। তাদের মতে, বয়সভিত্তিক ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি যৌক্তিক হলেও একটু বড় শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মেধার সঠিক মূল্যায়নের সুযোগ থাকা উচিত। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেবল প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে লটারি বহাল রেখে অন্যান্য শ্রেণিতে মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের পথ উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত খাতেও বিভিন্ন উন্নয়ন ও মেরামত কাজ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি সাময়িক বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া একটি প্রধান এলএনজি টার্মিনালের বয়লার সফলভাবে মেরামত করে পুনরায় সচল করা হয়েছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা খাতের এই নতুন ভর্তি নীতি কার্যকর হওয়ার ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা নতুন নিয়মের মুখোমুখি হবেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসগুলো জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা ও নীতিমালা প্রকাশ করা হবে, যাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা আগাম প্রস্তুতি নিতে পারেন। শিক্ষাবিদরা আশা করছেন, নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি উচ্চতর শ্রেণিগুলোতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।