রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে শিক্ষকদের অনুসন্ধান করতে পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত খবরে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে, যার মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমানের স্বাক্ষর করা একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার এই কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে গঠিত এই তথ্য অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তানজিউল ইসলামকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন-আল-রশীদ এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান। এ ছাড়া লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার মোছা. রেহেনা আকতারকে কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গণমাধ্যমে আসা তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক এই ধরনের গোপন কার্যক্রমে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই কমিটি কাজ করবে। লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মন্ডল ও গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমানসহ মোট সাতজন শিক্ষকের নাম এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক আসাদ মন্ডল ও মশিউর রহমানকে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোড় শওকাত আলী গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হওয়া সাতজন শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি সামগ্রিক বিষয়টি পর্যালোচনা করবে এবং পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।