দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে ব্রেন ক্যানসারের জটিল চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের বরেণ্য চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। গত সোমবার যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তবে দীর্ঘ মেয়াদে নিবিড় চিকিৎসা গ্রহণের পরও তাঁর শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শে জটিল অস্ত্রোপচার এবং প্রায় ১০০টির মতো কেমোথেরাপি নেওয়া সত্ত্বেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সুস্থতা ফিরে পাননি বলে নিশ্চিত করেছে পারিবারিক ও সাংগঠনিক সূত্র।
দেশে ফেরার পরদিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ইলিয়াস কাঞ্চনের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আরেক প্রখ্যাত চিত্রনায়ক ও দীর্ঘদিনের সহকর্মী আলমগীর। প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে আলমগীর অসুস্থ ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকা এই বরেণ্য অভিনেতাকে মানসিকভাবে সুদৃঢ় থাকার জন্য উৎসাহ দেন এবং গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
সামাজিক সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানান, চিত্রনায়ক আলমগীর দীর্ঘ সময় ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলমগীর এই কঠিন মুহূর্তে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং কাঞ্চনের দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। লিটন এরশাদ আরো জানান, টানা চিকিৎসাধীন থাকার কারণে ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক দুর্বলতা কাটেনি; উপরন্তু তাঁর স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে এবং স্মৃতি ধরে রাখতে বা স্মরণে আনতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং শারীরিক ধকলের কারণে তাঁর এই সংকট তৈরি হয়েছে।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম শীর্ষ তারকা ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয়তমা স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর থেকে তিনি ব্যক্তিগত জীবনের কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করে গড়ে তোলেন সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক জটিলতা বিবেচনা করে এখন গুলশানের বাসভবনেই নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হবে। চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মী, ভক্ত ও সাধারণ মানুষ তাঁর দ্রত আরোগ্যের জন্য পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করছেন।