গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় যাত্রীবেশে অটোরিকশায় উঠে এক চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার কালামপুর এলাকার আক্তার স্পিনিং মিলের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (২৪) কালিয়াকৈর উপজেলার সাহেব বাজার এলাকায় সপরিবার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এই ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড থেকে তিন ব্যক্তি যাত্রী হিসেবে সুমনের অটোরিকশাটি ভাড়া নেন। তারা কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর এলাকার দিকে রওনা হয়। পথিমধ্যে কালামপুর এলাকার আক্তার স্পিনিং মিলের সামনে একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে যাত্রীবেশে থাকা ওই ছিনতাইকারীরা চালক সুমন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। পরে তারা অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
নিহতের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। জনগণের উপস্থিতি টের পেয়ে এবং গণপিটুনির ভয়ে আতঙ্কিত ছিনতাইকারীরা অটোরিকশাটি ফেলে পার্শ্ববর্তী বনের আঁধারে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় সুমন মিয়াকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। এ সময় পুলিশ ছিনতাইকারীদের ফেলে যাওয়া অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ছিনতাইকারীরা সুমনের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন संवेदनशील স্থানে উপর্যুপরি ছুরি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। পুলিশ রাতেই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়।
এদিকে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় এলাকায় তীব্র শোক ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম জানান, হঠাৎ চিৎকারের শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সুমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু অন্ধকার ও নির্জনতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকদের টার্গেট করে ছিনতাই ও হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্জন সড়ক ও রাতেরবেলা চলাচলের সময় চালকরা প্রায়শই এ ধরনের চক্রের খপ্পরে পড়ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টার মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।