বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি বসতঘর থেকে মা, নানি ও ছেলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রাম থেকে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫), তাঁর মা মনিরা বেগম (৬০) এবং নানি রাশিদা বেগম (৯৩)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের সবার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র বা ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের গভীর চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া মরদেহগুলোতে পচন ধরতে শুরু করায় ধারণা করা হচ্ছে, গত দুই থেকে তিন দিন আগে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে চান্দেরকোলা গ্রামের ওই বাড়ির বারান্দায় একজন বয়োবৃদ্ধ নারীর মরদেহ দেখতে পান প্রতিবেশীরা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় কচুয়া থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। মূল রাস্তা থেকে বাড়িটি একটু অভ্যন্তরীণ ও নির্জন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এবং আশপাশে লোকজনের চলাচল কম থাকায় বিষয়টি এত দিন কারো নজরে আসেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোড. হারুন অর রশিদ জানান, প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতি দেখে এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পিবিআইয়ের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং সময় সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।