দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে যখন সাধারণ ভোক্তারা চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন, ঠিক তখনই সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচা মরিচের বড় চালান দেশে আসতে শুরু করেছে। প্রথম চালানেই ১০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকে প্রায় ১০০ টন বা ১ লাখ কেজি কাঁচা মরিচ সীমান্ত পার হয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে এসব কাঁচা মরিচ দ্রুত দেশের প্রধান প্রধান পাইকারি বাজারগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। আমদানিকারক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, এই কাঁচা মরিচ বাজারে পৌঁছালে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং খুচরা পর্যায়ে মরিচের দামও বেশ কমে আসবে।

ভোমরা কাস্টম হাউসের দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সীমান্ত অতিক্রম করে মোট ১০টি কাঁচা মরিচ বোঝাই ট্রাক ভোমরা স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ৯ থেকে ১১ টন পর্যন্ত কাঁচা মরিচ রয়েছে। ভোমরা কাস্টম হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমান জানান, দ্রুত পচনশীল পণ্য হওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় শুল্কায়ন এবং কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করেছে। প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই মরিচবোঝাই ট্রাকগুলো খালাস করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের পাইকারি বাজারগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা করানো হয়, যেন খুচরা বাজারে খুব দ্রুত এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আমদানির বিষয়ে ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাজারে অস্থিরতা নিরসনে আমদানির অনুমতি পাওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ে ভারত থেকে মরিচ আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রথম চালানে ১০ ট্রাক কাঁচা মরিচ দেশে পৌঁছেছে এবং আমদানির এই ধারা সচল রাখা হবে। সীমান্ত পেরিয়ে নিয়মিত সরবরাহ বজায় থাকলে কাঁচা মরিচের দাম অতি দ্রুত সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে বলে তিনি দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেন। সাতক্ষীরা শহরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলীও একই আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, বাজারে ভারতীয় মরিচের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দু-এক দিনের মধ্যেই কাঁচা মরিচের বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সম্প্রতি দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের এই আকাশচুম্বী দামের পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চরম ফলন বিপর্যয়কে দায়ী করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণের ফলে সাতক্ষীরা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার নিচু মরিচখেত পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে খেতেই মরিচ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামে এবং বাজারে সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও যে কাঁচা মরিচ বাজারে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল, সরবরাহ ঘাটতির কারণে কয়েক দিনের ব্যবধানে তা লাফিয়ে ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এমতাবস্থায় ভারত থেকে এই বড় চালান বাজারে প্রবেশের ফলে দ্রুতই কাঁচা মরিচের বাজারে স্বস্তি ফিরবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।