বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় প্রকাশ্যে একটি যাত্রীবাহী বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র অপরাধীদের একটি দল ফিল্মি কায়দায় দিনদুপুরে চলন্ত বাস গতিরোধ করে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং প্রায় ৬০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ডাকাত দলের এলোপাতাড়ি গুলিতে বেশ কয়েকজন যাত্রী ও পথচারী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। হঠাৎ এমন নৃশংস ও ধূর্ত হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা টেকনাফগামী একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে টেকনাফ উপজেলার একটি নির্জন ও কৌশলগত পয়েন্টে পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা সশস্ত্র ডাকাত দল বাসের সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। চালক গাড়ি থামাতে বাধ্য হলে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা মুহূর্তের মধ্যে বাসটির চারপাশ ঘিরে ফেলে। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যখন ডাকাতরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মূল্যবান সামগ্রী ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিতে শুরু করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই বাসে কয়েকজন ব্যবসায়ী ছিলেন যারা বড় অঙ্কের লেনদেন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে নগদ অর্থ বহন করছিলেন। ডাকাত দল সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট যাত্রীদের লক্ষ্য করে নগদ ৬০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়, যার ফলে এলাকায় তীব্র ত্রাস সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পরই হামলাকারীরা দ্রুত পাহাড়ি কিংবা দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকার দিকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। পুরো এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে এবং জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যার ফলে স্থানীয় নাগরিক সমাজ দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।