দীর্ঘদিন ধরে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকা এবং অপরাধ জগতের ত্রাস আব্দুল কুদ্দুস ওরফে ‘বোমা কুদ্দুস’-কে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হত্যা, অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি এবং বিস্ফোরক আইনের মোট ৬২টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন তিনি। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়েছেন এই শীর্ষ সন্ত্রাসী।
পুলিশ ও র্যাবের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ‘বোমা কুদ্দুস’ দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে গ্যাং কালচার নিয়ন্ত্রণ, কন্টাক্ট কিলিং, এবং প্রকাশ্য দিবালোকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও স্থানীয় কোন্দলের সুযোগ নিয়ে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন এবং অপরাধের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। একের পর এক গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার পরও তিনি বিভিন্ন ছদ্মবেশে ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে কুদ্দুসের অবস্থান ট্র্যাক করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। প্রযুক্তির সহায়তায় তার গতিবিধি নিশ্চিত হওয়ার পর একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে পাকড়াও করে। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে আর কেউ আইনের ফাঁক গলে এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
আইনজীবীরা বলছেন, ৬২টি মামলার মতো এত দীর্ঘ অপরাধের তালিকা নিয়ে বারবার জামিনে বের হয়ে আসা বা পলাতক থাকা বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কুদ্দুসকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার পেছনে থাকা অন্যান্য গডফাদার ও সহযোগীদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। র্যাব জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।