সবুজ মাঠের জাদুকর হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রের অন্য একটি বড় পরিচয় রয়েছে পোকার খেলোয়াড় হিসেবে। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রস্তুতিশিবির থেকে শুরু হওয়া এই মানসিক খেলার প্রতি তাঁর আকর্ষণ সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাইন্ড স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএসএ) দাবার মতো পোকারকেও মানসিক খেলা বা ‘মাইন্ড স্পোর্টস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পেশাদার ফুটবলের ব্যস্ততার ফাঁকে এবং ইনজুরির কঠিন দিনগুলোতে পোকার টেবিলই হয়ে উঠেছে নেইমারের অন্যতম বড় মানসিক আশ্রয়। গত এক দশকেরও বেশি সময়ে তিনি লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় পোকার সার্কিট ব্রাজিলিয়ান সিরিজ অব পোকার (বিএসওপি), বিশ্বখ্যাত ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকার (ডব্লিউএসওপি) এবং ইউরোপিয়ান পোকার ট্যুরে (ইপিটি) নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছেন।
অনলাইন পোকার প্ল্যাটফর্ম পোকারস্টার্সের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে তাঁর পোকার থেকে অর্জিত পুরস্কারের পরিমাণ ২৪ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ৮২ লাখ টাকারও বেশি। সাম্প্রতিক সময়েও এই খেলায় তাঁর সক্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে এবং চলতি মৌসুমেও তিনি লাখ লাখ রিয়াল পুরস্কার জিতেছেন। মাঠের বাইরে নানা সময় পোকার খেলার কারণে সমালোচনার মুখে পড়লেও, এই খেলাটিকে নেইমার তাঁর মানসিক চাপ মুক্তির ও সাধারণ মানুষের মতো সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পোকার টেবিলে তাঁকে বাড়তি সেলিব্রেটি প্রটোকল বা ভক্তদের ভিড়ের মুখোমুখি হতে হয় না, যা তাঁকে স্বাভাবিক স্বস্তি দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুটবলের পাশাপাশি পোকারেও তাঁর কৌশলগত দক্ষতা এবং জেতার মানসিকতা অনন্য।