স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় মরক্কো সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার অভিবাসীর আকস্মিক অনুপ্রবেশের ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্পেনের সরকারের এক মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই ঘটনার পেছনে ইসরায়েলের সম্ভাব্য উসকানিমূলক ভূমিকা থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, এই সংকটের নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

২০২১ সালের মে মাসে সেউতা সীমান্তে ঘটে যাওয়া সেই নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটের কথা স্মরণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মরক্কো ও স্পেনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে ওই সময় প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ সাঁতরে ও সীমানা প্রাচীর টপকে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল। সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক বক্তব্যে এই ঘটনার গভীরে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক শক্তির মদদ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে, মরক্কোর সঙ্গে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক এবং ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক অবস্থানের বিষয়টি এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

স্প্যানিশ মন্ত্রী মহলের এই ধরনের মন্তব্যের পর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদল রাজনৈতিক নেতা মনে করছেন, অভিবাসী সংকটকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মন্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, অপর একটি পক্ষ মনে করছে, ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চলে এবং উত্তর আফ্রিকায় বিদেশি শক্তিগুলোর গোপন প্রভাব ও কৌশলগত চালগুলো উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। মরক্কো সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এই ধরনের অভিযোগ অতীতেও দৃঢ়ভাবে নাকচ করা হয়েছে। দেশটির দাবি, সীমান্তে কড়াকড়ি শিথিল হওয়ার কারণে বা অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার ফলেই ওই অভিবাসী স্রোত তৈরি হয়েছিল, এর সঙ্গে অন্য কোনো দেশের প্ররোচনার কোনো যোগসূত্র নেই।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সেউতা ও মেলিলার মতো স্প্যানিশ ছিটমহলগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের ক্ষেত্রে আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যেকোনো ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কেবল স্পেন বা মরক্কো নয়, বরং পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নতুন বিতর্ক ইউরোপের অভিবাসন নীতি এবং ভূমধ্যসাগরীয় কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনে স্পেনের সরকার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল এই মন্তব্যের বিপরীতে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।