দীর্ঘ ও নিবিড় আলোচনার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার সর্বময় ক্ষমতা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। গত শনিবার রাতে রাজধানী ঢাকার গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মধ্যরাতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা নিয়েও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতবিনিময় হয়। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সমস্ত এখতিয়ার দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর যদি বিশেষ কোনো সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন পড়ে, তবে স্পিকারের সাথে পরামর্শ সাপেক্ষে আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীরই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, নতুন রাষ্ট্রপতি পদে দলের ভেতর থেকে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণার দায়িত্ব যেহেতু দলীয় প্রধানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাই শেষ পর্যন্ত কার মাথায় রাষ্ট্রপতি পদের মুকুট উঠছে, তা দেখার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।