দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান প্রচেষ্টায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে। সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয়টির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে অত্যাধুনিক ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে, যা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মচারীদের লেনদেন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করে তুলবে।
গত বৃহস্পতিবার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই উদ্ভাবনী সেবার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মানিত গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এই সভায় গভর্নর বাংলা কিউআর, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং একটি ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ডিজিটাল লেনদেনের গুরুত্ব এবং এর বহুমুখী সুবিধা তুলে ধরেন, যা একটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অপরিহার্য।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় সহায়তায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজিত হয়। এই আয়োজনে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সেলিম আর. এফ. হুসাইন তার মূল্যবান বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, “কীভাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে পারে, এই ‘বাংলা কিউআর’ উদ্যোগটি তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেশের প্রথম ক্যাশলেস ক্যাম্পাস গড়ার এই ঐতিহাসিক যাত্রায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মতো একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার হতে পেরে ব্র্যাক ব্যাংক অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের যুব সমাজকে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় উৎসাহিত করবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক জীবনকে আরও গতিশীল করে তুলবে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার তার বক্তব্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর-কে একটি সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের ওপর জোর দেন। উপাচার্য বলেন, এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি ডিজিটাল সমাজ নিশ্চিত করতে হলে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ এবং স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের সুবিধা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ডিজিটাল বিভাজন কমানো যায় এবং সবাই এই প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে পারে।
নতুনভাবে চালু হওয়া এই উদ্যোগের আওতায়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়া, বইয়ের দোকান, ফটোকপির দোকানসহ সকল ধরনের আর্থিক লেনদেন এখন থেকে বাংলা কিউআর এবং অন্যান্য ডিজিটাল ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অনায়াসে পরিশোধ করা যাবে। এর ফলে নগদ টাকা বহন এবং খুচরা সংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশে কমে যাবে। এটি কেবল লেনদেন প্রক্রিয়াকে আধুনিকীকরণই করবে না, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং আর্থিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ২০৪১ রূপকল্প বাস্তবায়নের পথে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক উদ্যোগের জন্য একটি অনুসরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে।