শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানী ঢাকার পল্টনে অবস্থিত ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ইসলামি আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ও নৈতিক নেতৃত্ব গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব ছাত্রসমাজের ওপরই ন্যস্ত। সাহাবায়ে কেরামের পবিত্র ও আদর্শিক জীবনধারা অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

মুফতি ফয়জুল করীম তার বক্তব্যে আত্মশুদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধি ছাড়া রাষ্ট্র বা সমাজের আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের রূহানিয়াত এবং সংগ্রামের চেতনার সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান মাদকাসক্তি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং দখলদারিত্বের মতো নেতিবাচক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে। ক্যাম্পাসগুলোকে একটি সুস্থ, শিক্ষাবান্ধব এবং সুন্দর পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলাই হোক বর্তমান প্রজন্মের মূল লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইসলাম কেবল মসজিদে সীমাবদ্ধ কোনো ইবাদত নয়, বরং এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিসহ মানুষের জীবনের প্রতিটি বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ পথপ্রদর্শক।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ। তিনি বিগত পাঁচ দশকের বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলো, বিশেষ করে লেজুড়বৃত্তি এবং সহিংসতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আদর্শহীনতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামভিত্তিক একটি কল্যাণকামী সমাজ বিনির্মাণ করাই বর্তমান ছাত্র রাজনীতির প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত। সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও সৎ জনশক্তি তৈরির ওপর তিনি জোর দেন। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, শাহ ইফতেখার তারিক এবং এস এম মাইনুদ্দিন জাহাঙ্গীরসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বর্তমান রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসংগতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয়গুলো সভায় বিশদভাবে আলোচিত হয়। বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, শিক্ষা খাতের চলমান সংকট এবং নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একটি জবাবদিহিমূলক, বৈষম্যহীন এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে তরুণ প্রজন্মের সচেতন ভূমিকা অপরিহার্য। সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন যে, ক্যাম্পাসগুলোতে ইসলামি মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলি প্রসারে তারা নিরলস কাজ করে যাবেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন এই আয়োজনের সার্বিক সমন্বয় করেন এবং সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্যাম্পাস প্রতিনিধিরা তাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।