বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ক্ষত এখনো হয়তো পুরোপুরি শুকায়নি। তবে পেশাদার ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণে ব্যক্তিগত আবেগ-হতাশাকে পেছনে ফেলে আবারও মাঠের লড়াইয়ে ফিরতে প্রস্তুত হচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। বৈশ্বিক আসরের টানটান উত্তেজনাকর ফাইনাল শেষ হওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন এই ফুটবল জাদুকর। তাকে আবারো ক্লাবের চেনা আঙিনায় অনুশীলনে ফিরতে দেখে স্বস্তি ফিরেছে মায়ামি শিবিরে এবং বিশ্বজুড়ে থাকা তার কোটি ভক্তের মনে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা।

২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হারটি ছিল বিশ্বজুড়ে লাখো আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে নিজের শেষ বিশ্বকাপ আসরে ট্রফি ধরে রাখার মিশনটি পূর্ণ করতে পারেননি মেসি। তবে ফাইনালের সেই দুঃখজনক অধ্যায় কাটিয়ে দ্রুতই নিজের বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। ফ্লোরিডার ফোর্ট লাউডারডেলের অনুশীলন মাঠে তাকে বেশ চাঙ্গা মেজাজেই দেখা গেছে। সতীর্থদের সাথে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করার পাশাপাশি প্রথম দিনেই তিনি বেশ কিছু কঠোর অনুশীলন সেশনে অংশ নেন।

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চলতি মৌসুমে ইন্টার মায়ামির অবস্থান বেশ সুসংহত হলেও, সামনের দিনগুলোতে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে মেসির উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। ক্লাবটির কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্ট মেসির এই দ্রুত প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। মায়ামির প্রধান কোচ জানিয়েছেন, মেসি মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী একজন অ্যাথলেট এবং তিনি সবসময় দলের প্রয়োজনে নিজের সেরাটা দিতে ব্যাকুল থাকেন। তবে বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সফর এবং মানসিক ধকলের বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে এখনই অতিরিক্ত চাপে ফেলতে চায় না ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

এখন ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রধান প্রশ্ন—কবে আবার মাঠে দেখা যাবে এই জাদুকরকে? মায়ামির পরবর্তী ম্যাচগুলোর টিকিটের চাহিদা ইতোমধ্যেই আকাশচুম্বী। বিশ্বস্ত ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের শেষদিকে এমএলএসের ঘরের মাঠের ম্যাচে মায়ামির জার্সি গায়ে শুরুর একাদশে না হলেও বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামতে পারেন মেসি। তবে ইনজুরি এড়াতে এবং তার শারীরিক কন্ডিশন পুরোপুরি শতভাগে উন্নীত করতে ট্রেনাররা তাকে নিয়ে সতর্কতার সাথে এগোচ্ছেন। বিশ্বকাপ ট্র্যাজেডি ভুলে মেসির এই প্রত্যাবর্তন মায়ামির আক্রমণভাগকে যে বহুগুণ শক্তিশালী করবে, তা বলাই বাহুল্য।