বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যে রক্ত ও আত্মত্যাগ দিয়েছেন, তা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি। এই মহান আত্মত্যাগ কোনোমতেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে বিগত বছরগুলোতে বিরোধী দলের ওপর চালানো দমন-পীড়ন, গুম, খুন এবং মিথ্যা মামলার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, হাজারো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন রাজনৈতিক সুযোগকে রক্ষা করতে হলে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা মহল যাতে জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মির্জা ফখরুলের এই মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রামের কথাই আবারও সামনে এসেছে। অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা তাদের বক্তব্যে বৈষম্যহীন এবং দুর্নীতিমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।