চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে অতি অল্প সময়েই নিজেকে এক ভয়ঙ্কর নামে পরিণত করেছেন মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড এবং অস্ত্রবাজির মতো গুরুতর সব অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ১৫টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের নির্দেশে বর্তমানে চট্টগ্রামের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী মূল দুই হোতার মধ্যে তিনি অন্যতম।
বিভিন্ন সূত্র ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ডেভিড ইমন বিশেষত ব্যবসায়ী, প্রবাসে অবস্থানরত বিত্তশালী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি করে থাকেন। এক্ষেত্রে বিদেশি ফোন নম্বর ব্যবহার করে তিনি কোটি কোটি টাকা দাবি করেন, যা তার অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের আন্তর্জাতিক সংযোগের ইঙ্গিত দেয়। ভুক্তভোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন, যা চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই প্রক্রিয়ায় হুমকি-ধমকি এবং ক্ষেত্রবিশেষে সহিংসতার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
চাঁদাবাজির পাশাপাশি ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্রের বেচাকেনা ও ব্যবহার, এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও জোরালোভাবে উঠে এসেছে। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অপরাধী চক্রটি চট্টগ্রাম শহরে এক ধরণের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ধরনের সংগঠিত অপরাধ শহরের সামাজিক শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের এই দ্রুত উত্থান ও ক্ষমতা অর্জনের পেছনে রয়েছে এক শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংযোগ। তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে চট্টগ্রামে তার অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ। সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে থেকে তার অনুগতদের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন, এবং ডেভিড ইমন সেই নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সংযোগের কারণে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আরও জটিল হয়ে পড়ে, কারণ তাদের আড়ালের শক্তি দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ডেভিড ইমনের কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিপুল সংখ্যক মামলা প্রমাণ করে যে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত। তবে, বিদেশে পলাতক মূল হোতাদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন এবং স্থানীয় অপরাধী চক্রের সক্রিয়তার কারণে তাকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডেভিড ইমন এবং তার মতো অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তা সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।