রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিতর্কিত হত্যাযজ্ঞের মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। নিজেকে আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট আদালত বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মপক্ষ সমর্থনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সাবেক এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের ভাষ্যমতে, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি দাবি করলেও দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার ওপর শ্রদ্ধা রেখে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেপ্তারি এড়াতে আত্মগোপনে না থেকে সরাসরি আদালতের কাছে গিয়েই নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ই মে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে তেরো দফা দাবিতে মতিঝিল এলাকায় এক বিশাল অবস্থানের আয়োজন করা হয়। গভীর রাতে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত অভিযান ঘিরে ব্যাপক প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচণ্ড বিতর্কের সূত্রপাত করে। তৎকালীন সরকারের শীর্ষ নীতি-নির্ধারক ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তোলে রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যার মামলা দায়ের করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত সরকারের প্রভাবশালী পদে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর ধারায় মামলা হওয়া এবং তাতে স্বপ্রণোদিত হয়ে আত্মসমর্পণের ঘোষণা একটি উল্লেখযোগ্য আইনি ঘটনা। ট্রাইব্যুনাল কিংবা বিচারিক আদালত তাঁর এই ঘোষণার পর কী ধরনের আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট আইনি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, অতীতেও বিভিন্ন মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জেরে একাধিকবার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। একপর্যায়ে তিনি দলীয় পদ ও মন্ত্রিসভা থেকেও বহিষ্কৃত হন। তবে এবার শাপলা চত্বরের স্পর্শকাতর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আইনি মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।