২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে একটি ‘চলমান বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন নাগরিক ছাত্র পরিষদ (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দৃঢ়তার সাথে মন্তব্য করেছেন যে, যারা শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া উপেক্ষা করেছে বা তাদের গুরুত্ব দেয়নি, ইতিহাসের পাতায় তাদের স্থান হবে কেবল আস্তাকুঁড়েই।
সোমবার (২৮ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী: প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। নাহিদ ইসলাম, যিনি ২০২৪ সালের সেই ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে পরিচিত, তার বক্তব্যে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিবাদ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার সূচনা, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং এখনও করছে।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি গণ-অভ্যুত্থানের রূপ নেয়। এই আন্দোলন তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় এবং এক পর্যায়ে সরকারের পতন ঘটাতে বাধ্য হয়। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াকে দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত শক্তি একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন এনেছে। তার মতে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ ও বিশেষত তরুণ প্রজন্ম তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা আরও জোরালো হয়েছে।
‘যারা সেদিন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি অগ্রাহ্য করেছিল, যারা তাদের ন্যায্য অধিকারকে পদদলিত করার চেষ্টা করেছিল, ইতিহাস তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না,’ মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে যারা ছাত্র সমাজকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছিল, আজ তাদের অস্তিত্ব ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে বিলীন হতে চলেছে। এই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, ছাত্র শক্তিকে অবমূল্যায়ন করা কোনো সরকার বা প্রশাসনের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের প্রতিটি বড় পরিবর্তনে ছাত্রদের নেতৃত্বমূলক ভূমিকা ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য, এর অর্জন এবং ভবিষ্যতের জন্য এর শিক্ষণীয় দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তারা একমত পোষণ করেন যে, এই আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
নাহিদ ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, নতুন সরকার গঠনের পরেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সকল রাজনৈতিক পক্ষকে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মতামতকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন যে, কোনো প্রকার দমন-পীড়ন বা অবজ্ঞা ভবিষ্যতে আরও বড় গণবিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। তার মতে, জুলাই বিপ্লব একটি বার্তা দিয়ে গেছে যে, জনগণের, বিশেষ করে তরুণ সমাজের সম্মিলিত ইচ্ছাকে কোনো শক্তিই দমন করতে পারে না। তিনি প্রত্যাশা করেন, এই বিপ্লবের আদর্শ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে এবং একটি জনমুখী, জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।