জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে অত্যন্ত শক্তিশালী ৭.১ মাত্রার একটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থানে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসতে শুরু করেছে। উদ্ধারকারী ও সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধসে পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় অনেক প্রাচীন উপাসনালয় ও আবাসিক বহুতল ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা এই ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছেন এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত উচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জরুরি পরিষেবাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হয়ে উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্যে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা না গেলেও, বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারিভাবে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ দলগুলো পরবর্তী পরাঘাত বা আফটারশকের আশঙ্কায় জনসাধারণকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ভয়াবহ দুর্যোগের লাইভ আপডেট প্রচার করছে।