রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকাকালীন কোনো ব্যক্তি সরাসরি কোনো আইনি পদক্ষেপ বা বিচারে মুখোমুখি হবেন না, তবে পদে আসীন হওয়ার আগের কিংবা মেয়াদ শেষ হওয়ার পরের কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সাংবিধানিক ও আইনগত নিয়ম অনুসারে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতির সুরক্ষা বলয় থাকলেও মেয়াদ সমাপ্তির পর পূর্বাপর যেকোনো অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে আইনি কোনো দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। জবাবে তিনি বলেন, দায়মুক্তির বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে থাকা অবস্থায় তাকে আইনের মুখোমুখি করা যায় না। তবে পদত্যাগের পর বা পদের মেয়াদ শেষে অতীতে বা পরবর্তীতে সংঘটিত যেকোনো ধরনের অসদাচরণ বা অন্যায়ের বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা থাকে না। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, তাঁর এই বক্তব্য নির্দিষ্ট কোনো একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
সরকারের অন্যান্য নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত সময়সূচির ভেতরেই চলতি বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার সরকারি প্রতিশ্রুতি বহাল রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করতে সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। পাশাপাশি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন এলাকা কক্সবাজারকে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি অবহিত করেন।
২০১৮ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে অতি সম্প্রতি বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। 해당 নির্বাচনের ভূমিকার কারণেই তাঁদের অবসরে পাঠানো হয়েছে কি না—এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা স্পষ্ট কিছু না বলে সরকারি চাকরির বিধিমালা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তার চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে কারণ দর্শানো ছাড়াই সরকারকে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক প্রয়োজন ও আইনের বিধিমালা অনুসরণ করেই এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে।
পরিশেষে, আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে ব্রিকসের পূর্ণাঙ্গ সদস্য নয়, কেবল পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছে। ফলে সম্মেলনে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনা এখনো শুরুর পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে চূড়াান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্রিফিংকালে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।