সারা বিশ্বে ধূমপান একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য খাতের ওপরও গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্য থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আহরণ করা হলেও, এর ক্ষতিকর দিকগুলো সমাজ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে সবসময়ই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) এবং হাঁপানিসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের মূল হোতা হিসেবে ধূমপানকে দায়ী করা হয়। বিশ্বজুড়ে পুরুষের তুলনায় নারী ধূমপায়ীর সংখ্যা কম হলেও সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, ধূমপানের জৈবিক প্রভাব নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন মাত্রায় কাজ করে।

বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত ড. র‍্যাচেল আর. হাক্সলি এবং প্রফেসর মার্ক উডওয়ার্ডের একটি সুপরিচিত মেটা-অ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। প্রায় ৩৯ লাখ মানুষের তথ্য এবং ৬৭ হাজার করোনারি হৃদরোগের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একই মাত্রার ধূমপান নারীদেহে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। জৈবিক গঠনগত পার্থক্যের কারণে নারীরা তামাকের বিষাক্ত উপাদানের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকেন। এর বাইরেও নারী ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে প্রজনন স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গর্ভপাত, বন্ধ্যাত্ব, অকাল প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্মদান এবং অকাল মেনোপজের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে পুরুষদের ক্ষেত্রে ধূমপান কম ক্ষতিকর। পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের কারণে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা পুরুষত্বহীনতা, শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান হ্রাস পাওয়া, এবং বিভিন্ন ধরনের মরণব্যাধি ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশ্বব্যাপী পুরুষ ধূমপায়ীর সংখ্যা বেশি থাকায় সামগ্রিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী পুরুষদের মধ্যেই ধূমপানজনিত মৃত্যু ও রোগের হার বেশি দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে মাত্র একটিমাত্র সিগারেট সেবন করলেও হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। তামাক ব্যবহারের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। একমাত্র ধূমপান সম্পূর্ণ পরিহার করাই এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।