নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সহিংসতায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার দুপুরে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের আলমশ্রী গ্রামে এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আলমশ্রী গ্রামের ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া এবং সাবেক ইউপি সদস্য বেকুল মিয়ার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। কিছুদিন আগে ফারুক মিয়ার এক আত্মীয়ের অটোরিকশার যাতায়াতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এই ঘটনা মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক বসা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। এর জেরে ফারুক মিয়ার লোকজন আলমশ্রী বাজারে যাতায়াত বন্ধ রেখেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফারুক মিয়ার এক ভাতিজার মৃত্যুর পর আজ দুপুরে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ববিরোধের জেরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতিতে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত ১১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন—এমদাদুল হক, সাইফুল ইসলাম, সজীব মিয়া, প্রান্ত মিয়া, আবুল কাশেম, মুনায়েম, রামিন, সিফাত, রোশনারা আক্তার, রাকিবা আক্তার ও ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা নুরজাহান আক্তার। এ ছাড়া বাকি আহতরা মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করেছে। সাবেক ইউপি সদস্য বেকুল মিয়া দাবি করেন, বর্তমান ইউপি সদস্য ফারুক এলাকায় একচ্ছত্র ত্রাস সৃষ্টি করতে চান এবং বিরোধীদের দমাতে হামলা চালিয়ে থাকেন। অন্যদিকে ইউপি সদস্য ফারুক মিয়ার অভিযোগ, স্থানীয় একটি হাওরের কোটি টাকার মৎস্য বাণিজ্য ও জলমহালের দখল নিতে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন করিম জানান, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে আলমশ্রী গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রাপ্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।