গণমাধ্যমের বর্তমান সংকট মোকাবিলা, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর ও চিফ রিপোর্টাররা। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে মূলধারার সাংবাদিকতার সুরক্ষা, ভুঁইফোঁড় ও অপসাংবাদিকতা রোধ এবং গণমাধ্যমের শৃঙ্খলা ফেরাতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল সংবাদকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা। সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে মূলধারার সাংবাদিকতা এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ভুঁইফোঁড় পোর্টাল ও ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এই নৈরাজ্য দূর করতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিবন্ধন ব্যবস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই সাপেক্ষে লাইসেন্স প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল সংগঠনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে জানান যে, সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাংবাদিকদের ঈদের ছুটি পাঁচ দিনে উন্নীত করা অন্যতম একটি সাফল্য। বর্তমানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এন্ট্রি লেভেলের সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে চ্যানেল আইয়ের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর আরেফিন ফয়সাল আধুনিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। এনটিভির চিফ রিপোর্টার সফিক শাহীন নিবন্ধনের পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা কঠোরভাবে পালনের তাগিদ দেন। আরটিভির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মাইদুর রহমান রুবেল এবং নিউজ টুয়েন্টিফোরের চিফ রিপোর্টার দিপন দেওয়ান যথাক্রমে অনলাইন গণমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ও মোবাইল সাংবাদিকতার (মোজো) জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর আদিত্য আরাফাত টেলিভিশন কর্মীদের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বতন্ত্র ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি জানান। এ ছাড়া একাত্তর টেলিভিশনের মোজাহিরুল হক রুমেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মীরাও সাংবাদিকদের কল্যাণ তহবিল শক্তিশালীকরণ, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভুঁইফোঁড় সাংবাদিকতা দমনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার, পেশাজীবী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সব মহলের আন্তরিক সহযোগিতায় দেশের গণমাধ্যম সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের নায্য অধিকারগুলো বাস্তবায়িত হবে।