যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথের বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউল করিমের মননশীল প্রবন্ধের নতুন বই ‘যে শুরুর শেষ নেই’-এর প্রকাশনা উৎসব রাজধানী ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বিকেলে কাকরাইলের ওয়াইএমসিএ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ এই গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তারের মতো গুণী ব্যক্তিত্বরা। বক্তারা ড. আতাউল করিমের বহুমুখী প্রতিভার প্রশংসা করে বলেন, তার লেখনীতে বিজ্ঞানমনস্কতার পাশাপাশি জীবন ও সমাজের গভীর উপলব্ধি ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে বইয়ের প্রবন্ধগুলো পাঠ করার সময় লেখকের তারুণ্যের দীপ্ত ও দূরদর্শী চিন্তাধারার পরিচয় পাওয়া যায়, যা বর্তমান প্রজন্মের তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম।

১৯৫৩ সালে মৌলভীবাজার জেলায় জন্ম নেওয়া অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউল করিম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের একটি উজ্জ্বল মুখ। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। এর আগে তিনি এই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট, এক্সিকিউটিভ ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) এবং চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও)–এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বমানের গবেষণায় তার অবদান প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের জন্য এক অনন্য উদাহরণ।

তার এই বুদ্ধিবৃত্তিক ও মননশীল পথচলার পেছনে রয়েছে সমৃদ্ধ পারিবারিক ঐতিহ্য। ড. আতাউল করিমের বাবা ডা. মুহাম্মদ আবদুশ শুকুর বাংলাদেশে ধূমপানবিরোধী জনসচেতনতামূলক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তার মা আনোয়ারা নূরী শুকুরও ছিলেন একজন প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব। পারিবারিক সেই মূল্যবোধ ও আদর্শই তার কর্মজীবন ও সাহিত্যচর্চাকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, ‘যে শুরুর শেষ নেই’ বইটি কেবল প্রাবন্ধিক সাহিত্যকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার প্রসার ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।