পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সাংবিধানিক ও ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে। এই পদত্যাগের পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও, এর সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা উদ্দেশ্য জড়িত রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। সম্প্রতি ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার দুপুরে ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী দেশের যুবসমাজ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা না গেলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদকাসক্তির মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এর ফলে সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক ধরনের মারাত্মক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে, যা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন যে, রাজনীতি মূলত দেশের অর্থনীতিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই একটি টেকসই এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে সবার আগে রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আবশ্যক। তিনি দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সকল রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল দেশের শান্তি বিঘ্নিত করতে না পারে।
ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও পরিচালক মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবদিন (ভিপি জয়নাল), সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক এবং পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চেম্বার পরিচালক জালাল উদ্দিন। সভার শুরুতে নবনির্বাচিত পরিচালকদের আইনগত শপথবাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক মনিরা হক।