ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় এক বছর আগে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর নারগিস বেগম ও তাঁর দুই শিশুসন্তান হত্যাকাণ্ড শুরুতে সাধারণ মৃত্যুর ঘটনা কিংবা খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা বলে মনে হয়েছিল। তবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নিবিড় ও নিবেদিতপ্রাণ তদন্তে সেই ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমানের মনে জন্ম নেওয়া সামান্য সন্দেহ ও খটকা থেকেই বেরিয়ে আসে এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য।
তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধ এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ক্ষোভের জেরে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল নিহত নারগিস বেগমের জামাতা রবিন (২২)। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন রোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি জানান, তার শাশুড়ি ডেকোরেটরের একটি লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করতেন, যা পরবর্তীতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই ব্যবসা বিক্রি করার অর্থ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের ভেতরে তীব্র ক্ষোভ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই রাতের আঁধারে সুযোগ বুঝে ঘুমন্ত শাশুড়ি এবং দুই শ্যালককে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন রবিন।
ঘটনার সময় বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার বা দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার নানা অপচেষ্টা করা হলেও, পিবিআইয়ের আধুনিক তদন্ত পদ্ধতি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে টিকতে পারেনি অপরাধী। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে গত ১৪ জানুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। বর্তমানে অভিযুক্ত রবিন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার কঠোর শাস্তির আইনি কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। এই রোমহর্ষক ঘটনাটি সে সময় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল এবং সচেতন মহলে তীব্র আলোড়ন তুলেছিল।