ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবানল পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে ফ্রান্স ও স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের কারণে অন্তত ৫০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চরম তাপপ্রবাহ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এই দাবানল দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত গিরোন্দ (Gironde) এবং ল্যান্ডস (Landes) এলাকার পাইন বনে আগুন তীব্র বেগে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচণ্ড বাতাস এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার কারণে দমকলকর্মীদের জন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বনাঞ্চলের আশপাশের গ্রাম ও শহরগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অস্থায়ী শিবির ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে।
অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ স্পেনের অবস্থাও কম আশঙ্কাজনক নয়। স্পেনের এক্সত্রেমাদুরা, আন্দালুসিয়া এবং কাস্তিল ই লেয়ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি ও কৃষিজমি ভস্মীভূত হয়েছে। স্প্যানিশ সরকারের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, জীবন বাঁচাতে এবং বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে বিভিন্ন জনপদ থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনী আকাশ ও স্থলপথে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে, তবে বৈরী আবহাওয়া তাদের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন যে, চলতি গ্রীষ্মে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে দক্ষিণ ইউরোপে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং জনজীবনের ওপর মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। ফরাসি ও স্প্যানিশ সরকারগুলো আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি নাগরিকদের উচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।