সংবাদকক্ষের চিরচেনা ব্যস্ততা, অপরাধজগতের জটিল ও সংবেদনশীল খবরের অনুসন্ধান কিংবা সহকর্মীদের আড্ডায় যিনি সব সময় প্রাণচাঞ্চল্য বজায় রাখতেন, সেই চেনা মুখটি আজ আর নেই। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী সদস্য ও দৈনিক ‘খবর সংযোগ’-এর বিশেষ প্রতিনিধি আবু হেনা রাসেলের অকালপ্রয়াণে ক্র্যাব মিলনায়তনে নেমে এসেছে গভীর শোক ও স্তব্ধতার ছায়া। একজননিষ্ঠ সহকর্মীকে হারানোর তীব্র বেদনায় গত শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংগঠনটির নিজস্ব মিলনায়তনে এক আবেগঘন দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই এক ভারাক্রান্ত ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।

ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহর সাবলীল সঞ্চালনায় এই শোকসভায় কান্নাভেজা কণ্ঠে মরহুমের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাঁদের স্মৃতির চারণা করেন। বক্তব্য দেওয়ার সময় সহকর্মীদের মানসপটে বারবার ভেসে ওঠে রাসেলের পেশাগত দায়িত্ববোধ, সততা, নির্ভীকতা ও স্পষ্টবাদিতার নানা দিক। মাঠপর্যায়ের ঝুঁকিপূর্ণ সাংবাদিকতায় তাঁর অসাধারণ সাহসিকতা এবং নবীন বা অনুজ সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর আন্তরিক সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের কথা তুলে ধরে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা বলেন, আবু হেনা রাসেল কেবল একজন দক্ষ ও পেশাদার সংবাদকর্মীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন অত্যন্ত মানবিক, অমায়িক ও পরোপকারী এক বিরল ব্যক্তিত্ব।

স্মৃতিচারণা পর্বে মরহুম রাসেলের বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনের বিভিন্ন দিক ও নানা অবদানের কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল, ফকরুল আলম কাঞ্চন, কামরুজ্জামান খান, সংগঠনের উপদেষ্টা মর্তুজা লিটন হায়দার, সাবেক সহসভাপতি মাসুম মিজান, শাহীন আব্দুল বারী ও উমর ফারুক আলহাদী প্রমুখ। এ ছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খানসহ প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ মরহুমের পেশাগত অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বক্তারা একবাক্যে স্বীকার করেন যে, অপরাধ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে রাসেলের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

আলোচনা সভা শেষে বক্তারা রাসেলের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং যেকোনো বিপদে-আপদে ও প্রয়োজনে তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বের সমাপ্তির পর সাংবাদিক আবু হেনা রাসেলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং তাঁর চিরশান্তি কামনা করে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। সেগুনবাগিচা জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. আবুল হাসানাত এই দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন, যেখানে সমবেত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি ইসারফ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা ইকরামুল কবীরসহ সংগঠনের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সদস্যরা। রাসেলের এই আকস্মিক প্রয়াণ শুধু তাঁর পরিবার বা সহকর্মীদের জন্যই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সাংবাদিকতা অঙ্গনের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।