মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোকে একটি ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কেবল পদত্যাগের মাধ্যমেই এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটা উচিত নয়; বরং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং আর্থিক খাতের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর আইনি ফয়সালা নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। বিবৃতির শুরুতেই তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অব্যবহিত পরেই জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। তবে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির রক্ষণশীল ও দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা তাঁদের মূল্যায়নে তুলে ধরেন যে, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পতনের জন্য ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন মাত্র ৩৬ দিন সময় নিলেও, বিগত সরকারের অংশীদার হিসেবে চিহ্নিত রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের মতো একটি জাতীয় দাবি বাস্তবায়নে বিএনপির প্রায় ১৫৮ দিন সময় লেগেছে। দলটির মতে, এই দীর্ঘসূত্রিতা জাতীয় রাজনৈতিক গতিপ্রবাহে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা তৈরি করেছিল।

বিবৃতিতে আরও জোরালোভাবে উল্লেখ করা হয় যে, মো. সাহাবুদ্দিনের শাসনামলে ব্যাংকিং খাতের অর্থ তছরুপ, পদ্ধতিগত দুর্নীতি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো যেসব গুরুতর অভিযোগ জনসমক্ষে এসেছে, সেগুলোর প্রতিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার মধ্য দিয়ে আইনি জবাবদিহির বাইরে চলে যাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এবি পার্টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতির মাধ্যমে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটে এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী পরিস্থিতিতে এবি পার্টি তাদের কঠোর ও স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করল।