মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় টানা ১৩তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনার পর এই হামলার তীব্রতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের উপকণ্ঠে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আন্দিমেশক ও ওমিদিয়েহ শহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা পুরো অঞ্চলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। আহভাজ ছাড়াও বন্দর আব্বাসের আবাসিক এলাকায় হামলায় আরও বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আইআরজিসি প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। তবে তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ইরানের হাতেই রয়েছে এবং তাদের সহযোগিতা ছাড়া ওই অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা বজায় রাখা অসম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক হুঙ্কার পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দেওয়া ‘সর্ববৃহৎ হামলার’ প্রতিশ্রুতি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কুয়েতে একটি টেলিকম টাওয়ার ধ্বংসসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলার জবাবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কোনো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়, বরং সামরিক উত্তাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে।