বর্ষাকাল মানেই প্রকৃতি এক নতুন রূপ ধারণ করে। বর্ষার এই মৌসুমে বাংলার গ্রামীণ জনপদে বইছে ভিন্ন আমেজ। কদম বা হাসনাহেনার মতো বর্ষার চিরচেনা ফুলের পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলে ফুটছে নানা রঙের বুনো ফুল। রাঙামাটির আঝাছড়িতে হালকা গোলাপি রঙের ধুতুরা ফুল ফোটার দৃশ্যে মুগ্ধ হচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। অন্যদিকে মৌলভীবাজারের শান্তিবাগে সুবাস ছড়াচ্ছে হাজার বেলি ফুল, যা চারপাশের পরিবেশকে স্নিগ্ধ করে তুলেছে। প্রকৃতির এই রূপ বৈচিত্র্যের সাথে মিশে আছে গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও কর্মব্যস্ততা।
ফরিদপুরের চর নশিপুর এলাকায় খোলা আকাশের নিচে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা গেছে এক শিশুকে, যা শৈশবের নির্মল আনন্দকে স্মরণ করিয়ে দেয়। একই জেলার ডাঙ্গি এলাকার কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট কাটা নিয়ে। বর্ষার উর্বর মাটিতে বেড়ে ওঠা পাট কেটে তা নদী বা জলাশয়ে জাগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কৃষিভিত্তিক এই জনপদে পাট কাটা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ এখন গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাঙামাটির পুরোনো বাস টার্মিনাল এলাকায় কচুরিপানাভর্তি হ্রদে মশারি জালে মাছ ধরতে দেখা গেছে স্থানীয় জেলেদের, যা পাহাড়ি অঞ্চলের জীবিকার আরেকটি চিত্র তুলে ধরে।
তবে এই প্রাণচাঞ্চল্যের মাঝেও কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা জনজীবনকে কিছুটা ব্যাহত করে। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কিছু সময় যান চলাচল বিঘ্নিত হলেও বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের পথচলা ও অবসরের মুহূর্তগুলোও বেশ মনোরম। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের খুঁটিতে বসে থাকা পানকৌড়ি কিংবা রাঙামাটির মোনঘরে ডালে বসা বুলবুলি পাখির কিচিরমিচির প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বগুড়ার নুরুইল এলাকায় গ্রামীণ ধুলোবালির পথ ধরে নারী ও শিশুদের হেঁটে চলা এবং পল্লীমঙ্গলে কাজের ফাঁকে রাস্তার পাশে একটু জিরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যগুলো বাংলার চিরায়ত রূপেরই প্রকাশ।