ফুটবল মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা এবং নিবিড় প্রস্তুতি। আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে ঘুম ও বিশ্রামকে এখন সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে মেক্সিকোর বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল তাদের খেলোয়াড়দের নির্বিঘ্ন ঘুম নিশ্চিত করতে এক অভিনব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মেক্সিকান সমর্থকদের প্রবল উৎসাহ এবং মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের কারণে ইংলিশ শিবির এখন বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

মূলত, ইকুয়েডর দলের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর থেকেই ইংল্যান্ডের নীতিনির্ধারকরা চিন্তিত। ইকুয়েডর যখন মেক্সিকো সিটির ওয়েস্টিন হোটেলে অবস্থান করছিল, তখন স্থানীয় কিছু সমর্থক গভীর রাতে লাউডস্পিকার, হর্ন এবং মোটরসাইকেলের বিকট শব্দ তৈরি করে তাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল। ফিফার কাছে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেজন্য হ্যারি কেইনদের হোটেলের নাম কঠোর গোপনীয়তার সাথে রাখা হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাতে কোনোভাবে অবস্থানের তথ্য ফাঁস না হয়, সে বিষয়েও দলটির বিশেষ নজরদারি রয়েছে।

খেলোয়াড়দের ঘুমের ব্যাঘাত রোধে ইংল্যান্ড দল এখন ‘হোয়াইট নয়েজ’ (White Noise) অডিও মেশিন এবং প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধের সহায়তা নিচ্ছে। যারা ব্যক্তিগতভাবে ইয়ার প্লাগ বা স্লিপ ব্যান্ড সঙ্গে আনেননি, তাদের জন্য এই বিশেষ সরঞ্জামগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে। কোচ টমাস টুখেল এবং তার টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছেন, নকআউট পর্বের এই ম্যাচে জয়ী হতে হলে শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ সতেজতা অপরিহার্য।

তবে কেবল সমর্থকদের উৎপাত নয়, ইংল্যান্ড দলের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই শহরে অক্সিজেনের মাত্রা বেশ কম। কোচ টমাস টুখেল অকপটে স্বীকার করেছেন যে, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে এই উচ্চতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, উচ্চতাজনিত এই প্রতিকূলতা মেক্সিকোকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে, কারণ তারা এই পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত। বিপরীতে, ইংলিশ খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি বড় শারীরিক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াইয়ের আগেই মাঠের বাইরের নানা প্রতিকূলতা সামলাতে হ্যারি কেইনদের বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।