ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে দেশটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা এবং সামরিক সংঘাতের কয়েক মাস পর তার এই প্রস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে খামেনির শেষকৃত্য আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠান টানা ছয় দিন ধরে চলবে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

রাজধানী তেহরানে খামেনির কফিন জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করছেন। এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ইরানে এসে পৌঁছেছেন। ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সমগ্র দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যে সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, তার প্রেক্ষাপটে এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে সম্পর্কের সমীকরণ খামেনির অনুপস্থিতিতে কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল রয়েছে। ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রথা অনুযায়ী যথাযথ মর্যাদায় তাকে সমাহিত করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, খামেনির উত্তরাধিকার এবং পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে দেশটির নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বর্তমান সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কাউন্সিল ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে খামেনির এই বিদায় ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়। রাজধানী তেহরানের প্রধান সড়কগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আবেগপূর্ণ অংশগ্রহণে শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।