বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) ফেসবুকের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই বানোয়াট বিজ্ঞপ্তিটি ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই দলটির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং একে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই বিজ্ঞপ্তিটির সাথে তার বা বিএনপির দাপ্তরিক কোনো কার্যক্রমের সম্পর্ক নেই। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তার স্বাক্ষর জাল করে এই মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। দলীয় প্যাড ও স্বাক্ষর নকল করে তৈরি এই বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিএনপির দাপ্তরিক কোনো মাধ্যম থেকে এ ধরনের কোনো বার্তা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়নি বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যখন দেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, তখন এ ধরনের গুজব ছড়ানোকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। রুহুল কবির রিজভী দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এবং সাধারণ মানুষকে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভুয়া বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অপপ্রচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। অতীতেও বিভিন্ন সময় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া বিবৃতি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা দলটির পক্ষ থেকে বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে একটি কুচক্রী মহল জনমনে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দলটি পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।