ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে পুরো বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে এমন শোকাবহ পরিস্থিতিতেও দেশটির অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে গুপ্তহত্যার হুমকির মুখে খামেনির ছেলে মোজতোবা খামেনি তার বাবার জানাজায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার প্রতিনিধি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এই তথ্যটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বিমান হামলায় ইরানের এই শীর্ষ নেতার মৃত্যুর ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এদিকে, খামেনির জানাজাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ডার আলী আব্দুল্লাহি এক বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এই কমান্ডার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ নিলে বা আগ্রাসন চালালে তার ভয়াবহ পরিণতির জন্য শত্রুপক্ষকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রয়াত এই নেতার জানাজা অনুষ্ঠানটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণজমায়েত হিসেবে বিবেচিত হতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ১৯৮৯ সালে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় প্রায় ১ কোটি মানুষের যে সমাগম হয়েছিল, এবারের আয়োজন সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই জানাজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ইরানের প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে মোজতোবা খামেনির অনুপস্থিতি এই আয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থাগুলো উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করছে, যার ফলে মোজতোবার নিরাপত্তা ঝুঁকিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যখন নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজছে, তখন খামেনির শেষ বিদায়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন দেশটির নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, কারণ খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।