ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দের। এই ম্যাচটি আলবিসেলেস্তেদের জন্য কেবল পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ নয়, বরং বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের একটি নতুন সংযোজন। বিশ্বকাপের ময়দানে আফ্রিকার দেশগুলোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। সেই আসরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচেই ক্যামেরুনের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বড় ধরনের অঘটনের শিকার হয়েছিল। ফ্রাঁসোয়া ওমান-বিয়েকের সেই ঐতিহাসিক হেড গোলটি আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান। তবে সেই ধাক্কা সামলে কার্লোস সালভাদর বিলার্দোর শিষ্যরা শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল।

আর্জেন্টিনা এবং আফ্রিকান দলগুলোর লড়াইয়ের কথা উঠলে সবার আগে আসে নাইজেরিয়ার নাম। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া একই গ্রুপে লড়েছে। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোরার শেষ ম্যাচটি ছিল নাইজেরিয়ার বিপক্ষেই, যেখানে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে ২০০২, ২০১০, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশেষ করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ও মার্কোস রোহোর গোলগুলো আর্জেন্টিনাকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। নাইজেরিয়া ছাড়াও ২০০৬ সালে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়টি আর্জেন্টিনার পরিসংখ্যানের খাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।

এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে থাকা কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় বিস্ময়। স্পেন, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দলের গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকে তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তিনটি ম্যাচ ড্র করে আসা কেপ ভার্দে তাদের রক্ষণাত্মক কৌশলের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক এবং তার বিশ্বকাপ ইতিহাসের গোলসংখ্যা বৃদ্ধির রেকর্ড আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে রেখেছে।

কেপ ভার্দের মতো নতুন শক্তির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে মরিয়া। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে তাদের রূপকথার গল্প আরও দীর্ঘ করতে চায়। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের সৃজনশীলতা বনাম কেপ ভার্দের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের লড়াইটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। শুক্রবার গভীর রাতে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচটি বিশ্ব ফুটবলের দর্শকদের জন্য নিঃসন্দেহে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।