চলমান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে কোনো প্রকার চাপে নেই তরুণ সেনসেশন এন্ড্রিক। রিয়াল মাদ্রিদের এই উদীয়মান ফরোয়ার্ডের মতে, কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে দলে রাখুন বা না রাখুন, তার ব্যক্তিগত রুটিন বা মানসিক প্রশান্তিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। ১৯ বছর বয়সী এই তারকা খেলোয়াড় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ শান্ত আছেন এবং নিজের ওপর অগাধ আস্থা রাখছেন।

ব্রাজিল দলের অন্যতম ভরসা লুকাস পাকেতা ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়ায় এন্ড্রিকের শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। জাপানের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে পাকেতার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি ব্রাজিল শিবিরের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে এলেও, এটি এন্ড্রিকের জন্য বড় মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে। তবে এই সুযোগকে বাড়তি চাপ হিসেবে নিতে নারাজ তিনি। এন্ড্রিক বলেন, ‘আমি শিশুর মতো নিশ্চিন্তে ঘুমাব। আমার বিশ্বাস, সঠিক সময়ে সবকিছুই ঘটবে। আমি এখানে কোনো অলৌকিক কিছু করতে আসিনি, বরং নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে এসেছি।’

ব্রাজিল জাতীয় দলে সিনিয়র খেলোয়াড়দের সান্নিধ্য এবং পরামর্শ তার ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করেন এন্ড্রিক। বিশেষ করে নেইমারের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং মাঠের বাইরের সময়গুলো তাকে মানসিকভাবে পরিপক্ক করে তুলছে। তিনি জানান, নেইমার, কাসেমিরো, মারকুইনস ও আলিসনের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শেখার সুযোগটি তিনি দারুণভাবে উপভোগ করছেন। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন বেঞ্চে বসে নেইমারের কাছ থেকে পাওয়া উপদেশগুলো তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

কোচ কার্লো আনচেলত্তি নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের কৌশল ও একাদশ এখনো গোপন রেখেছেন। এন্ড্রিক নিজেও জানেন যে, দলের স্বার্থেই কোচ যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তা মেনে নেওয়াই পেশাদারিত্ব। যদি একাদশে সুযোগ পান, তবে তা হবে চলতি বিশ্বকাপে তার প্রথম ম্যাচ শুরু করা। এর আগে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে তিনি নিজের প্রভাব জানান দিয়েছেন। এন্ড্রিক স্পষ্ট করে বলেছেন, মাঠে গোল করা বা অবদান রাখাটা শুধু তার একক কৃতিত্ব নয়, বরং এটি ঈশ্বর এবং পরিবারের আশীর্বাদের ফসল। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি কেবল একটি লড়াই নয়, বরং এন্ড্রিকের মতো তরুণ প্রতিভার নিজেকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে চেনানোর অনন্য সুযোগ।