বাংলাদেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বাংলা কিউআর’ (কুইক রেসপন্স) কোডের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। এই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন এবং ১ জুলাই—এই দুই দিনে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারের মাধ্যমে ২২ কোটি ২ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এই সময়ে মোট ৭৭ হাজার ১৬৫টি সফল লেনদেন রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের ক্রমবর্ধমান প্রসারেরই ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি ঢাকা শহরের মতিঝিল এলাকা থেকে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে ‘বাংলা কিউআর’ কোড চালু করা হয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় এর পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং বর্তমানে দেশের ৪৬টি ব্যাংক, ৭টি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ৪টি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এই সেবার আওতায় যুক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৬৩ হাজার মার্চেন্ট বা বিক্রেতা বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসছে।
বর্তমানে দেশে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক বেশ শক্তিশালী। বিকাশের প্রায় ৯ লাখ, নগদের সাড়ে ৪ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের (রকেটসহ) ২ লাখ ৭০ হাজার এবং পূবালী, ইসলামী, সোনালীসহ অন্যান্য ব্যাংকের কিউআর কোডগুলোকে বাংলা কিউআরের একক প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা এখন যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ থেকে যেকোনো মার্চেন্টের কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই পেমেন্ট করতে পারছেন। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে সব ব্যাংক এবং পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি আরও গতিশীল হয়েছে।
চীন, ভারত ও এস্তোনিয়ার মতো বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম অর্থনীতিতে ব্যাপক স্বচ্ছতা ও গতি এনেছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকও ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিগত সহায়তায় সরকারি সব ধরনের সেবার আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই কিউআর কোড ব্যবহারের প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।