রাজধানীর মিরপুরে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। গত ২৩ জুন মিরপুর-২ নম্বর সেকশনের ‘ই’ ব্লকে ব্যবসায়ী আফরোজ উদ্দিনের বাসায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, পুনরায় তাঁর ছেলের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আলোচিত একটি হত্যা মামলার সাক্ষ্য দেওয়া ও মামলা চালিয়ে যাওয়ার জের ধরেই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর এই হামলা চালাচ্ছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বুধবার রাতে ব্যবসায়ী আফরোজ উদ্দিনের ছেলে মোহাইমিন ইসলাম ওরফে আশিক তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার সময় মিরপুরের উত্তর বিশিল এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করার চেষ্টা করে। সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন ও করিমের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন তাঁকে থামানোর সংকেত দেয়। মোহাইমিন দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে সন্ত্রাসীরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়। এই ঘটনায় আতঙ্কিত পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং বাসা থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৩ জুন আফরোজ উদ্দিনের বাসায় যে ককটেল হামলা চালানো হয়েছিল, তার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর সালাউদ্দিন ও করিমকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ বিষয়ে মিরপুর ও শাহ আলী থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশের মিরপুর বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এজাহারভুক্ত আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আফরোজ উদ্দিন ২০০৫ সালে সংঘটিত ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন হত্যা মামলার বাদী। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে চলা এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ বর্তমানে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এ চলমান। অভিযোগ রয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত হোসেন, খোরশেদ ও ‘ডিশ’ শাহীনসহ মামলার আসামিরা দীর্ঘদিন ধরেই মামলাটি তুলে নিতে ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি বন্ধের চেষ্টা করা হলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে তা পুনরায় সচল হয়। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বিচার প্রক্রিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে মামলার বাদীর ওপর বারবার হামলা ও হুমকির ঘটনা আইনের শাসনের প্রতি এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন প্রশাসনের কাছে কঠোর নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।