বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬৬ কেজি সিসা ও বিপুল পরিমাণ মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। শুক্রবার সেগুনবাগিচায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি নামের দুই যমজ ভাই এবং তাদের সহযোগী মো. মাকসুদ আলম।

অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার তথ্য অনুযায়ী, এটিই এখন পর্যন্ত কোনো একক অভিযানে জব্দ করা সিসার সর্বোচ্চ পরিমাণ। গ্রেপ্তারকৃত দুই ভাই ইরানি বংশোদ্ভূত হলেও তাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ইরানে যাতায়াতের সুবাদে তারা সিসা ব্যবসার কৌশল, সরবরাহ পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই তারা বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী অনলাইনভিত্তিক সিসা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। ফেসবুক পেজকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে তারা গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ, পণ্যের প্রচারণা এবং মূল্য নির্ধারণ করত। এরপর মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে কুরিয়ার সার্ভিসের সাহায্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সিসা পৌঁছে দিত এই চক্র।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে বসুন্ধরা ও মালিবাগ এলাকা থেকে সিসার দুটি ছোট চালান জব্দ করা হয়। এরপর প্রেরকের সূত্র ধরে গুলশানের কালাচাঁদপুরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে যমজ দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ফ্ল্যাট থেকে ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা ও ২০টি হুঁকা উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ভাটারা এলাকা থেকে চক্রের অপর সদস্য মাকসুদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে আরও ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুঁকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযানে ৬৬ কেজি সিসা, ৪০ কেজি কয়লা এবং পাঁচটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।

বর্তমানে এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্য, ক্রেতা এবং পরিবেশকদের শনাক্ত করতে জোর তদন্ত চলছে। জব্দকৃত মুঠোফোন ও ফেসবুক পেজের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় ভাটারা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে মাদক নির্মূলে এমন অভিযান জনমনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্ত শেষে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে।