কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক অভয়া (ছদ্মনাম) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার রেশ কাটছে না, বরং নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে স্তম্ভিত সচেতন নাগরিক সমাজ। নিহত চিকিৎসকের বাবা-মায়ের আইনজীবীর দাবি, ঘটনার তদন্তের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ভিসেরা নমুনায় কারচুপি বা বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মামলাটি আবারও জনমনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার হলে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয় এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শিয়ালদহ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে শুরু থেকেই নিহতের পরিবার এই রায় প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত মাস্টারমাইন্ডদের আড়াল করতে সঞ্জয় রায়কে কেবল ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির তিন কর্মকর্তার পাঠানো একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। নিহতের পরিবারের দাবি, ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংগৃহীত ভিসেরা নমুনা বিকৃত করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই শিয়ালদহ দায়রা আদালতে পুনরায় আবেদনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। আইনজীবী অমর্ত্য দে আদালতে দাবি করেছেন যে, তৎকালীন রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশে ফরেনসিক ল্যাবের ওই কর্মকর্তারা নমুনা বিকৃতির মতো গুরুতর অপরাধের সাথে যুক্ত ছিলেন।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। অন্যদিকে, নিহতের পরিবার কেবল দণ্ডিত ব্যক্তিকে নয়, বরং এই জঘন্য অপরাধের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদেরও মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানিয়েছে। ফরেনসিক ল্যাবের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না আসলেও, এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ যে বিচার ব্যবস্থাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, আদালত এই আবেদন গ্রহণ করে কোন পথে মামলার পরবর্তী নির্দেশনা দেন।