মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি বিশেষ অভিযানে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অনলাইনে অবৈধ সিসা সরবরাহকারী একটি শক্তিশালী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় সিসার চালান। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি নামে দুই সহোদর রয়েছেন, যারা ইরানি বংশোদ্ভূত। দীর্ঘদিন ইরানে বসবাসের সুবাদে তারা সিসা ব্যবসার কৌশল আয়ত্ত করেন এবং বাংলাদেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই অবৈধ বাণিজ্য গড়ে তোলেন।
অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিএনসির গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ জুলাই রাজধানীর ভাটারা ও মালিবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পাঠানো পার্সেল থেকে ২ কেজি সিসা জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে এই সূত্র ধরে কালাচাঁদপুরে এক ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে দুই ভাইকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানার নূরেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মাকসুদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়। এই তিনজনের কাছ থেকে সর্বমোট ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা, ৪০ কেজি কয়লা এবং বিপুল পরিমাণ সেবন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চক্রটি একটি ফেসবুক পেজকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে সারা দেশে সিসা ও এর সরঞ্জাম সরবরাহ করত। তারা গ্রাহকদের অর্ডার গ্রহণ থেকে শুরু করে মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়া—সবই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করত। বিশেষ করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারা লেনদেন সম্পন্ন করত, যাতে তাদের প্রকৃত পরিচয় ও অর্থের উৎস গোপন থাকে। ডিএনসি এখন তাদের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত গ্রাহক ডাটাবেস বিশ্লেষণ করছে। এর মাধ্যমে চক্রটির সাথে জড়িত নিয়মিত ক্রেতা ও অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে এই পুরো নেটওয়ার্কটি ভেঙে দিতে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।